বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস আজ
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৬-০৮-২০২৬ ১২:৪৯:১১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৬-০৮-২০২৬ ১২:৪৯:১১ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
শ্রাবণের অঝোর ধারায় বিশ্বপ্রকৃতি যখন সিক্ত, ঠিক তেমনই এক বর্ষাস্নাত দিনে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে অচিনের উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন বাংলা সাহিত্যের মহীরুহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ (১৯৪১ সালের ৬ আগস্ট) কলকাতার জোড়াসাঁকোর পৈতৃক বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহান পুরুষ। প্রিয় ঋতু বর্ষার হাত ধরেই তাঁর মহাপ্রস্থান ঘটলেও, মৃত্যুর আট দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে আজ ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকীতেও তিনি বাঙালির মননে চির জাগ্রত। বাইশে শ্রাবণ কেবল শোকের তারিখ নয়; বরং রবীন্দ্রনাথের অমর সৃষ্টি, দর্শন ও মানবিক চেতনায় স্নাত হওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ।
১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদাসুন্দরী দেবীর কোল আলো করে জন্ম নেওয়া রবীন্দ্রনাথ ছিলেন পরিবারের ১৪তম সন্তান। মাত্র আট বছর বয়সে তার হাতেখড়ি হয় সৃজনের ভুবনে। ১৮৭৪ সালে ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’য় ‘অভিলাষ’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে যে সাহিত্যযাত্রার সূচনা, ১৮৭৮ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী’র হাত ধরে তা আরও বিকশিত হয়। সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায়—৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ১৩টি উপন্যাস, ৯৫টি ছোটগল্প, ৩৮টি নাটক, ৩৬টি প্রবন্ধ ও গদ্যকাহিনিতে তিনি ঢেলে দিয়েছেন তাঁর অতুলনীয় প্রতিভা। ২ হাজারের বেশি গান রচনা করে তৈরি করেছেন ‘রবীন্দ্রসংগীত’-এর এক আবহমান সুরলোক, যা আজকের বাঙালির সুখ-দুঃখ ও আবেশের ধ্রুবতারা।
রবীন্দ্রনাথ কেবল বঙ্গভূমির সীমানায় আবদ্ধ থাকেননি। ১৯১০ সালে প্রকাশিত ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের বদৌলতে ১৯১৩ সালে প্রথম এশীয় হিসেবে অর্জিত হয় সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। বাংলা ভাষাকে তিনি বসিয়েছেন বিশ্বসাহিত্যের সর্বোচ্চ আসনে। বিশ্বভ্রমণে ব্যাকুল কবি ১৮৭৮ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে ঘুরে বেরিয়েছেন ৩০টিরও বেশি দেশ, ছড়িয়ে দিয়েছেন সার্বজনীন মানবিকতার বাণী। তাঁর সৃষ্টি কতটা সার্বজনীন, তার প্রমাণ মিলেছে দুই দেশের জাতীয় সংগীতে—বাংলাদেশের ‘আমার সোনার বাংলা’ এবং ভারতের ‘জনগণমন’ তাঁরই অমর সুরমালা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও কবির গান ও কবিতা বাঙালিকে জুগিয়েছে মুক্তির দুর্নিবার সাহস ও অদম্য অনুপ্রেরণা।
রবীন্দ্রনাথ শুধু নিঃসঙ্গ সাধক ছিলেন না; সমাজভাবনা ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি ছিলেন সদা জাগ্রত। ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’, ১৯২১ সালে শ্রীনিকেতন এবং ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’। প্রজাহিতৈষী জমিদার হিসেবে কৃষকদের কল্যাণে প্রবর্তন করেছিলেন অগ্রগামী কৃষিঋণ ব্যবস্থা। অন্যদিকে, ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইটহুড’ খেতাব বর্জন করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন ন্যায় ও সত্যের পক্ষে তাঁর সুদৃঢ় অবস্থান।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালির জাতীয় আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ ও প্রগতির এক অবিনাশী রূপক। সময়ের স্রোত বইলেও তাঁর সাহিত্য ও সুরের আবেদন এতটুকু ম্লান হয়নি বরং নতুন প্রজন্মের কাছে নতুনরূপে দ্যুতি ছড়িয়ে চলেছে।
বিশ্বকবির প্রয়াণবার্ষিকী স্মরণে আজ রাজধানীসহ সারা দেশে আয়োজিত হয়েছে বিভিন্ন ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানমালা। এর অংশ হিসেবে আজ সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে সবার জন্য উন্মুক্ত পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হবে বিখ্যাত গীতিনাট্য ‘শ্যামা’। বর্ষার এই দিনে রবীন্দ্রনাথের চিরন্তন সুর ও কথা প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে নতুন করে বেজে উঠছে—তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন আমাদের জীবনের প্রতিটি অনুভবে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স